
ভূমিকা
জীবনসঙ্গী নির্বাচন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সঠিক সঙ্গী নির্বাচন করা গেলে দুনিয়া ও আখিরাত — উভয় জগতেই সফলতা আসে। ইসলাম এই বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা দিয়েছে, যা অনুসরণ করলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
হাদিসের নির্দেশনা
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট মাপকাঠি দিয়েছেন:
"নারীকে চারটি গুণের জন্য বিবাহ করা হয় — সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। তুমি দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দাও, তাহলে তোমার হাত ধুলায় মিশবে (অর্থাৎ তুমি সফল হবে)।"
— সহিহ বুখারী ও মুসলিম
এই নির্দেশনা বরের জন্য যেমন, কনের পক্ষেও তেমনি প্রযোজ্য — উভয়কেই দ্বীনদারি ও চরিত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিবেচ্য বিষয়সমূহ
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত:
- দ্বীনদারি ও চরিত্র: নামাজ, রোজা ও হালাল-হারামের প্রতি যত্নবান কিনা; আখলাক কেমন।
- পারিবারিক পটভূমি: পরিবারের মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও পরিবেশ।
- শিক্ষা ও পেশা: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জীবিকার বাস্তবতা।
- স্বভাব ও মেজাজ: রাগ, ধৈর্য ও সহনশীলতার স্তর।
- পারস্পরিক বোঝাপড়া: বিবাহপূর্ব সাক্ষাৎ (মাহরামের উপস্থিতিতে) ও প্রস্তাব আলোচনায় মতের মিল।
ইস্তিখারা ও পরামর্শ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সালাতুল ইস্তিখারা পড়া এবং অভিভাবক ও বিশ্বস্ত আলেমদের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইস্তিখারা আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনার একটি মাধ্যম, যা সিদ্ধান্তে প্রশান্তি এনে দেয়।
উপসংহার
সঠিক জীবনসঙ্গী আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত। দ্বীনদারি ও চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়ে, পরিবারের পরামর্শ নিয়ে এবং ইস্তিখারার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলে ইনশাআল্লাহ দাম্পত্য জীবন হবে সুন্দর ও বরকতময়।


