
ভূমিকা
মোহরানা (মাহর) ইসলামি বিবাহচুক্তির একটি অপরিহার্য অঙ্গ। এটি স্ত্রীর একটি ন্যায্য অধিকার, যা বর স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টচিত্তে কনেকে প্রদান করতে বাধ্য। কুরআনে এর গুরুত্ব স্পষ্টভাষায় বর্ণিত হয়েছে।
কুরআনের বিধান
"তোমরা স্ত্রীদের মোহরানা সসৎ মনে প্রদান করো। যদি তারা স্বেচ্ছায় কিছু মাফ করে দেয়, তাহলে তা সস্তন্দে ভোগ করো।"
— সূরা আন-নিসা: ৪
এই আয়াত প্রমাণ করে — মোহরানা স্ত্রীর পাওনা, সৌজন্য নয়; এবং মাফ করার অধিকারও একমাত্র স্ত্রীর।
মোহরানার তাৎপর্য
- স্ত্রীর সম্মান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
- বিবাহের গুরুত্ব ও দায়বদ্ধতা বরের কাছে তুলে ধরে।
- স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া বিবাহচুক্তির মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ থাকে।
নির্ধারণের নীতিমালা
মোহরানা নির্ধারণে শরীয়ত যেসব নীতি দিয়েছে:
- সামর্থ্য অনুযায়ী: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য সামান্য, সে যেন একটি আংটিও হলে দেয়। সামর্থ্যের বাইরে চাপ দেওয়া উচিত নয়।
- পারস্পরিক সম্মতি: বর-কনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
- সহজ রাখা: কনের পরিবারের পক্ষ থেকেও সামর্থ্যের সীমা রক্ষা করা উচিত — কম মোহরানা বরকতের কারণ।
- স্পষ্ট উল্লেখ: বিবাহচুক্তির সময় পরিমাণ স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা।
| বিষয় | শরয় বিধান |
|---|---|
| প্রদানের সময় | সাথে সাথে বা স্থগিত (নির্ধারিত) |
| মালিকানা | সম্পূর্ণরূপে স্ত্রীর |
| মাফের অধিকার | শুধুমাত্র স্ত্রীর |
| যৌতুকের সাথে পার্থক্য | মোহরানা স্ত্রীর অধিকার, যৌতুক হারাম |
উপসংহার
মোহরানা স্ত্রীর অধিকার — তা যথাযথভাবে নির্ধারণ ও প্রদান করা প্রত্যেক বরের দ্বীনি দায়িত্ব। সামর্থ্য ও সহজতার ভারসাম্য রেখে মোহরানা নির্ধারণ করলে তা উভয় পরিবারের জন্য কল্যাণ ও বরকত বয়ে আনে।


