
ভূমিকা
বিবাহের পর শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়, দুটি পরিবারের সাথেই সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব আসে। শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ি — উভয়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের শিক্ষা এবং সুখী সংসারের পূর্বশর্ত।
শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে সম্পর্ক
- স্বামীর পিতা-মাতাকে নিজের পিতা-মাতার মতোই সম্মান করা।
- তাদের পরামর্শকে সদিচ্ছার সাথে গ্রহণ করা, এমনকি মতভেদ থাকলেও বিনয়ের সাথে মীমাংসা করা।
- ছোট ছোট খেদমত — খাওয়ানো, সেবা, সম্মান প্রদর্শন — জান্নাতের পথ।
নিজের পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক
বিবাহের পর মেয়ে স্বামীর ঘরে গেলেও তার ওপর পিতা-মাতার হক রয়ে যায়:
- নিয়মিত যোগাযোগ ও খোঁজখবর রাখা।
- সম্ভব হলে মাসিক ভিজিট বা অন্তত ফোনে দেখা-সাক্ষাৎ।
- স্বামীকেও উচিত স্ত্রীর পিতা-মাতার খোঁজ রাখতে উৎসাহিত করা।
ভারসাম্য রক্ষার উপায়
উভয় পরিবারের সাথে সমান আন্তরিকতা রাখাই আদর্শ। এজন্য:
- দুই পরিবারের সাথে সাক্ষাতে ন্যায্য ভারসাম্য রাখা।
- কোনো পরিবারের নৈর্ব্যক্তিক সমালোচনা অন্য পরিবারের কাছে না করা।
- সমস্যা তৈরি হলে সরাসরি ও বিনয়ীভাবে আলোচনা করা, পরোক্ষ অভিযোগ নয়।
- ঈদ, বিবাহবার্ষিকী ও বিশেষ দিনে দুই পরিবারকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া।
দোয়া
পরিবারের মাঝে ভালোবাসা ও ঐক্যের জন্য নিয়মিত দোয়া করা উচিত:
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
রাব্বিগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ারহামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা
উপসংহার
দুটি পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক মানেই সংসারে অতিরিক্ত শুভেচ্ছা ও শান্তি। সম্মান, ন্যায্য ভারসাম্য ও সরাসরি আলোচনার নীতি মেনে চললে বিবাহিত জীবন হয় দুই পরিবারের মিলনের সেতু।


