পারিবারিক জীবন

পরিবারের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় ইসলামিক নির্দেশনা

শেখ মোহাম্মদ আলী২ ডিসেম্বর, ২০২৪২ মিনিটEnglish
পরিবারের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় ইসলামিক নির্দেশনা

ভূমিকা

বিবাহের পর শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়, দুটি পরিবারের সাথেই সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব আসে। শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ি — উভয়ের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের শিক্ষা এবং সুখী সংসারের পূর্বশর্ত।

শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে সম্পর্ক

  • স্বামীর পিতা-মাতাকে নিজের পিতা-মাতার মতোই সম্মান করা।
  • তাদের পরামর্শকে সদিচ্ছার সাথে গ্রহণ করা, এমনকি মতভেদ থাকলেও বিনয়ের সাথে মীমাংসা করা।
  • ছোট ছোট খেদমত — খাওয়ানো, সেবা, সম্মান প্রদর্শন — জান্নাতের পথ।

নিজের পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক

বিবাহের পর মেয়ে স্বামীর ঘরে গেলেও তার ওপর পিতা-মাতার হক রয়ে যায়:

  • নিয়মিত যোগাযোগ ও খোঁজখবর রাখা।
  • সম্ভব হলে মাসিক ভিজিট বা অন্তত ফোনে দেখা-সাক্ষাৎ।
  • স্বামীকেও উচিত স্ত্রীর পিতা-মাতার খোঁজ রাখতে উৎসাহিত করা।

ভারসাম্য রক্ষার উপায়

উভয় পরিবারের সাথে সমান আন্তরিকতা রাখাই আদর্শ। এজন্য:

  • দুই পরিবারের সাথে সাক্ষাতে ন্যায্য ভারসাম্য রাখা।
  • কোনো পরিবারের নৈর্ব্যক্তিক সমালোচনা অন্য পরিবারের কাছে না করা।
  • সমস্যা তৈরি হলে সরাসরি ও বিনয়ীভাবে আলোচনা করা, পরোক্ষ অভিযোগ নয়।
  • ঈদ, বিবাহবার্ষিকী ও বিশেষ দিনে দুই পরিবারকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া।

দোয়া

পরিবারের মাঝে ভালোবাসা ও ঐক্যের জন্য নিয়মিত দোয়া করা উচিত:

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

রাব্বিগফির লি ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ারহামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা

হে আমার রব! আমাকে এবং আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।

উপসংহার

দুটি পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক মানেই সংসারে অতিরিক্ত শুভেচ্ছা ও শান্তি। সম্মান, ন্যায্য ভারসাম্য ও সরাসরি আলোচনার নীতি মেনে চললে বিবাহিত জীবন হয় দুই পরিবারের মিলনের সেতু।

শেয়ার করুন